Friday, January 1, 2016

যে কারনে আল্লামা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারেনি আদালত

মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- থেকে বেকসুর খালাসের পক্ষে মত দিয়েছেন আপিল বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। এর সপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে রায়ে এই বিচারপতি বলেন, আসামিপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে, ১৯৭১সালের মধ্য জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত সাঈদী যশোরের বাঘারপাড়া থানার দোহাখোলা গ্রামে রওশন আলীর বাড়িতে ছিলেন। তিনি মধ্য জুলাইয়ের পর পিরোজপুরের পাড়েরহাটে যান। অর্থাৎ সাক্ষ্য দিয়ে আসামিপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে যে অপরাধ সংঘটনের সময় আসামি সাঈদী ঘটনাস্থলে ছিলেন না।মোট ৬১৪ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা লিখেছেন ২৪৪ পৃষ্ঠা। রায়ে তিনি বলেন, ‘আসামি ঘটনাস্থলে ছিলেন এটা আগে বিবেচ্য বিষয়। আসামি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, এটা প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তাই আসামির করা আপিল মঞ্জুর করা হলো। রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করা হলো।’রায়ে এ বিচারপতি বলেছেন প্রসিকিউশনের মামলা এবং আসামিপক্ষের আবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত ১৯৭১ সালে একজন রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিল এবং সেই ক্ষমতাবলে তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন- এটা প্রমাণ করাই মূল বিষয়। কিন্তু প্রসিকিউশন এ বিষয় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্য-প্রমাণে অভিযুক্ত যে একাত্তরেএকজন রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যছিল সে বিষয়ে  রিজনেবল ডাউটের (যৌক্তিক সন্দেহের) সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে এ সন্দেহের সুবিধা অবশ্যই অভিযুক্তকে দিতে হবে।রায়ে বিচারপতি বলেন সাঈদীর মামলার শুনানিকালে আসামিপক্ষের দাবি ছিল, মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পিরোজপুরের পাড়েরহাট এলাকায় ছিলেন না। আসামিপক্ষের (ডিফেন্স) সাক্ষী ৬, ৮, ১২ এবং ১৪ বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী এবং তাদের সাক্ষ্য অবিশ্বাস করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিনি।রায়ে বলা হয়েছেÑ ১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক, সংগ্রাম, পূর্বদেশ, আজাদ, পাকিস্তান, সংবাদে একাত্তরের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনসংবলিত একটি কপিও দাখিল করা সম্ভব হয়নি। অথচ ৯০ দশকে প্রকাশিত ভোরের কাগজ ও জনকণ্ঠ, ২০০৫ সালে প্রকাশিত সমকাল এবং ২০০৩ সালে প্রকাশিত নিউএজ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আমলে নিয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত এ ধরনের প্রতিবেদন কোনোরকমের সত্যতা নিরূপণছাড়াই আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে আইওর আচরণ এ মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে অবহেলাকে তুলে ধরে। একই সঙ্গে সেই বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের অবহেলাকেও তুলে ধরে।বিচারপতি বলেনÑ অভিযুক্ত রাজাকার বা পিস কমিটির সদস্য ছিলেন কিনা সেটা প্রমাণ করার জন্য মেজর জিয়াউদ্দিনের সাক্ষ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, যে এলাকায় অভিযুক্ত অপরাধ সংঘটন করেছিল, সেই পাড়েরহাট এলাকার অর্থাৎ ৯ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউদ্দিন। চার্জশিটে তার নাম উঠে আসা সত্ত্বেও কেন তাকে এমামলায় সাক্ষী না করার কি কারণ ছিল তা জানা নেই।তবে সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া সর্বোচ্চ শাস্তিা মৃত্যুদ- বহাল রাখার পক্ষে মত দেন আপিল বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। এর সপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে রায়ে এই বিচারপতি বলেন, যে ধরনের অপরাধের জন্য ও পরিস্থিতিতে মৃত্যুদ- দেওয়া যায় সেই ধরনের পরিস্থিতি ও অপরাধের চেয়েঅনেক জঘন্য অপরাধ করেছেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।মোট ৬১৪ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন ২১৮ পৃষ্ঠা। রায়ে তিনি বলেনÑ ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট ফর সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর) যে পরিস্থিতিতে মৃত্যুদ- সমর্থনযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে, তার চেয়েও অনেক জঘন্য অপরাধ করেছেন সাঈদী। তিনি আরোবলেন, যদিও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট নিজে কোনো মৃত্যুদ- দিতে পারে না, তবুও রোম স্ট্যাচুট যার দ্বারা ওই আদালত সৃষ্টি হয়েছে তা পরোক্ষভাবে মৃত্যুদ- স্বীকার করে। কেননা রোম স্ট্যাচুট অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজ দেশের আদালতে মানবতাবিরোধীদের বিচার করতে সক্ষম।রায়ে তিনি বলেনÑ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যেসব অপরাধের অংশীদার ছিলেন সেসব অপরাধ ১৯৭১ সালে এবং তার পরবর্তীকালে বিশ্ববিবেককে অত্যন্ত মারাত্মকভাবে কম্পিত করে তুলেছিল। গণহত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগসহ হেন কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নেই যাসাঈদী করেননি। তিনি এ দেশে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন রক্ষাকল্পে সমস্ত বিবেক-বুদ্ধির মাথা খেয়ে এক জঘন্য হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞে নেমেছিলেন, যা সারা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।বিচারপতি রায়ে বলেনÑ এটাও প্রমাণিতযে তার ও তার পরিবারের লোকদের ভয়ে বহু লোক সাক্ষ্য দিতে আসেননি এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। তার মতো একজন জঘন্য কুলাঙ্গারকে বাঁচিয়ে রাখার অর্থ হবে তার ও তার পরিবারকে এধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ করে দেওয়া। তিনি যেহেতু হাজারমানুষের প্রাণ নিয়েছেন, সুতরাং তার প্রাণ নেওয়া কোনোভাবেই অযৌক্তিক হবে না।এদিকে সাঈদীর আপিল নিষ্পত্তির রায়ে তদন্ত সংস্থার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।  রায়ে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির কথা উল্লেখ করে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘আমরা বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি লক্ষ্য করেছি। তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগের বিষয়ে মমতাজ বেগমের করা এজাহার সংগ্রহে কার্যকর কোনো চেষ্টা চালায়নি। একইভাবে প্রসিকিউটরও কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি (প্রসিকিউটর) কোনো তদন্ত করেননি যে, মমতাজ বেগমের করা ওই এজাহার সত্য কিংবা মিথ্যা। তিনি এ বিষয়ে নিশ্চুপ থেকেছেন।রায়ে তদন্ত সংস্থার ব্যর্থতার সম্পর্কে বলা হয়, তদন্ত সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অযোগ্য তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো মামলার সঙ্গে রাখা ঠিক হবে না। তাকে এখনই সরানো উচিত। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা সুবিধা নেবে।এদিকে সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়াসর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- থেকে কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ-ের পক্ষে মত দেন বেঞ্চের ৩ বিচারপতি। অপর দুই বিচারপতি যথাক্রমে মৃত্যুদ- বহাল ও বেকসুর খালাসের রায় দিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদ-ই পান সাঈদী।মোট ৬১৪ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) লিখেছেন ১৫২ পৃষ্ঠা। রায়ে তিনি সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করলেও মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার বিষয়ে ভিন্নমত দিয়ে আমৃত্যু কারাদ-াদেশ দেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন বেঞ্চের দুই বিচারক বিচারপতি মো. মোজাম্মেল  হোসেন (তৎকালীন প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।মৃতুদ- থেকে কমিয়ে আমৃত্যু কারদ- দেয়া রায়ে বলা হয়, ‘সকল আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে আমরা মনে করি, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল ৭, ১০, ১৬, ১৯ ও ৮ (অংশবিশেষ) নম্বর অভিযোগের ওপর যথাযথভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৭, ৮ (অংশবিশেষ) ও ১০ নম্বর অভিযোগে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছি। আমরা ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে শাস্তি বহাল রাখছি। ট্রাইব্যুনাল ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদ- দিয়েছে। আমরা ৮ (আংশিক) নম্বর অভিযোগে মানিক পসারির ভাইয়ের ওপর নির্যাতন ও তাদের বাড়িতে লুটপাটের জন্য দোষী সাব্যস্ত করছি। ১০ নম্বর অভিযোগে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে উমেদপুর গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বিশাবালী হত্যাকা-েঅংশ নেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করছি। এ অভিযোগে অন্য রাজাকাররা বিশাবালীকে হত্যা করে। আর সাঈদী ওই হত্যাকা-ের সহযোগী ছিলেন। প্রধান আসামি ছিল অন্য রাজাকার। প্রসিকিউশন তাকে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি। এমনকি তার নামও শনাক্তকরতে পারেনি।’রায়ে আরও বলা হয়, এটা সত্য যে উভয় অপরাধ জঘন্য। কিন্তু মূল অপরাধীর অনুপস্থিতিতে সহযোগীকে মৃত্যুদ- দেওয়া যায় না। মৃত্যুদ- দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা হয় যে অভিযুক্তকে যে জন্য সাজা দেওয়া হচ্ছে তা নির্মম ও নারকীয় কি না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২(২) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী যেটা যৌক্তিক সেই শাস্তি দেবে। রায়ে বলা হয়, ‘আমাদের মৃত্যুদ- ছাড়া আদালত যেটা যৌক্তিক মনে করবে সে ধরনের সাজা দেওয়ার কোনো বিধিবিধান নেই। সাজা দেওয়ার নীতি তৈরি করা হয়নি। যুক্তরাজ্যে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আদালতকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে বিধি করাহয়েছে। অপরাধের মাত্রা অপরাধ সংঘটনের প্রেক্ষাপট, অপরাধীর বয়স ও আচরণ, ব্যক্তিবিশেষ ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্রা, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, অপরাধীর সংশোধনের বিষয় আমলেনিয়ে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনা করেন। কিন্তু মানবতাবিরোধীঅপরাধের ক্ষেত্রে এগুলো বিবেচ্য বিষয় নয়।রায়ে বলা হয়Ñ সাঈদী এমন এক অপরাধ করেছেন যখন মানুষ স্বাধিকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছিল আর ওই সংগ্রামী মানুষের ওপর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বর্বর হামলা করেছে। তখন সাঈদী তাদের সহায়তা করে অপরাধ করেছেন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর নির্মমতার সীমা নেই। সাঈদীর মতো দোসরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা নির্মম ও জঘন্য অপরাধ চালিয়েছে। তবেসাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০(২) ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদ-  অথবা আদালত যেটা মনে করে সেটাই প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাঈদীর অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়ামৃত্যুদ- অনুমোদন করার মতো নয়। এ কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাদ- দেওয়াই যুক্তিযুক্তবলে আদালত মনে করছেন।’রায়ে আরও বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের ৪০ বছর পর বিচার হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। দুটি সামরিক সরকার ক্ষমতায় এসে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করেছে। নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। ডানপন্থী জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মভিত্তিক দলের মাধ্যমে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো লোকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে জোট গঠন করে তারা ক্ষমতাসীন হয়েছে। এই রাজনৈতিক মেরুকরণ তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে।জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে সংবিধানের মূলনীতি। এ পরিস্থিতিতে রাজাকার ও শান্তি কমিটির তালিকা সংগ্রহ করা কঠিন। এটাবলা অতিরঞ্জিত হবে না যে আসামি রাজাকারের নামের তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েছেনÑ বলা হয় রায়ে।তবে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদ- দেয়া রায়ে প্রসিকিউশনের ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।রায়ে বলা হয়Ñ এটা মনে রাখা দরকার যে, রাষ্ট্র মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে নতুন প্রজšে§র সামনে অপরাধীদের মুখোশ উšে§াচন ও সঠিক ইতিহাস লেখার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। আমাদের অভিমত প্রসিকিউটর একজন শিক্ষানবিশ আইন কর্মকর্তার মতো কাজ করেছেন। তার মধ্যে মামলা পরিচালনার যোগ্যতায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তিনি এ মামলা উদাসীনতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মামলাপরিচালনা করেননি তিনি। চিফ প্রসিকিউটরও সে ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) যদি যথাযথভাবে তদারকি না করেন তবে তার এই অফিসে থাকার প্রয়োজন নেই। প্রসিকিউশন অফিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে জুয়া খেলতে পারে না।রায়ে আরও বলা হয় এই মামলার মতো অন্য মামলাও তারা যেভাবে পরিচালনা করেছেন তাতে আমরা মর্মাহত। এটা মনে রাখা দরকার যে এসব মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িতরা অতিরিক্ত অর্থসহ অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে তাদের সরকারি কোনো দায়িত্ব দেওয়া উচিত না।