Wednesday, December 30, 2015

ক্রিকেট থেকে সাময়িকের জন্য বিদায় নিলেন পেসার -রুবেল হোসেন

বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে সাময়িকের জন্য বিদায় নিচ্ছেন পেসার রুবেল হোসেন। না, কোন অন্যায়ের জন্য না । ইনজুরির কারনেই তার এই অবসর।বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড বধ বা ইংল্যান্ড বধের কথা বলতে গেলে রুবেল হোসেনের নাম সবার আগে চলে আসে। রুবেলের গতির কাছে বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান নিজেদের সপে দিয়েছেন।তবে এখন রুবেল ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করছেন না বরং নিজেই আক্রান্ত ইনজুরিতে। বলা যায়, ভারত সফরই কাল হয়েছে। ‘এ’ দলের সঙ্গে ভারত সফরে গিয়ে ইনজুরি নিয়ে দেশে ফেরেন পেসার রুবেল হোসেন।ভারতের বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ‘এ’ দলের চার দিনের ম্যাচে বল করতে গিয়ে চোট পান বাঁ পায়ের পেশিতে। সফর অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসতে হয় দেশে।মাঝে সিলেট সুপার স্টার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ছয়টি ম্যাচ খেললেও এই পেসার আসলে পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন না তখনো। বিপিএলের পর ফিটনেসট্রেনিং করতে গিয়ে পায়ের বেশির ব্যথাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে আবারও।সোমবার (২১ ডিসেম্বর) রুবেলের বাম পায়ের পেশিতে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানো হয়। স্ক্যান করার পর দেখা যায়, রুবেলের মাংস পেশী এখনো পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। ফলশ্রুতিতে অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং বিসিবির ফিজিও-চিকিৎসকেরা এবার তাই এক মাসের পূর্ণ বিশ্রাম দিয়েছেন রুবেলকে।এই একমাস রুবেল হাঁটা ছাড়া আর কোনো কিছুই যেমন জগিং, দৌড়ানো এগুলো কিছুই করতে পারবেন না। তবে জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম মনে করেন, এক মাসের বিশ্রামের পর পুনর্বাসন, ফিটনেস ও অনুশীলনের পর মাঠে ফিরতে রুবেলের সময় লাগবে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস।রুবেলের ইনজুরি প্রসঙ্গে জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বললেন, ‘ছিঁড়ে যাওয়া পেশি জোড়া লাগাতে হলে আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহ পায়ের ওপর হাঁটা ছাড়া আর কোনো ভর দিতে পারবে না ও।দৌড়ানো, জগিং কিছুই করতে পারবে না। তবে শরীরের ওপরের অংশের ব্যায়ামগুলো করতে পারবে।’সামনেই ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি। এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কত কিছু। কিন্তু এমন সময়েই প্রায় আড়াই মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হচ্ছে পেসার হান্ট দিয়ে উঠে আসা এই পেসারকে।তিনি নিজেও এটাকে দুর্ভাগ্য হিসেবে মানছেন। দেশের শীর্ষ দৈনিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন রুবেল।বললেন, ‘আমার দুর্ভাগ্য…এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই! আমার এখন একটাই চ্যালেঞ্জ—সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা। কী কী টুর্নামেন্ট আসছে, কী কী খেলতে পারবনা, সেগুলো নিয়ে ভাবছি না। চোট নিয়ে খেললেতো আরও বড় ক্ষতি হবে।ভারত সফর থেকে ইনজুরি নিয়ে ফেরার পর আবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন রুবেল। খেলেছেন বিপিএলের ছয়টি ম্যাচ। বিপিএলের পর পরই সেই পুরোনো চোট মাথাচাড়াদিয়ে উঠলো।তবে কি বিপিএলে চোট নিয়েই খেলেছেন? এমন প্রশ্নের উওরে রুবেল অবশ্য বললেন, ‘সে রকমকিছু নয়। বিপিএলের সময় ব্যথা হলে তো আমি খেলতেই পারতাম না।’ফিজিও বায়েজিদ ইসলামও জানালেন রুবেল ফিট ছিলেন বিধায়ই খেলতে দেয়া হয়েছে। তবে কেন সেই পুরোনো চোট আবারো ফিরে এলো সেই প্রশ্নের উত্তর ছিলো না তার কাছে।বিপিএল শেষে প্রায় সব ক্রিকেটাররাই ছুটিতে। কেউ দেশে আবার কেউ বা দেশের বাইরে। অন্যদের মত রুবেলও যাচ্ছেন নিজের গ্রামের বাড়িতে। ফিজিওর বেঁধে দেয়া এক মাসের বিশ্রাম কাটাতেই যে তার সেখানে যাওয়া।