Thursday, December 31, 2015

পরিসংখ্যানের আলোয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ২০১৫ সাল

২০১৫ সালটা বাংলাদেশের জন্য অনন্য এক স্মরনীয় বছর হয়ে থাকবে। সাফল্যে মন্ডিত একটা দুর্দান্ত একটা মৌসুম পার করল বাংলাদেশ। বিশেষ করে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে পারফর্মেন্স করেছে তা রীতিমত ঈর্শনীয়। বাংলাদেশের এই সাফল্য নিয়ে গবেষণায় নামারসিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।
আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১২ জানুয়ারী ঢাকায় আসবে। তবে টেস্ট ও টি-২০তে তেমন সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। দেখে নেওয়া যাক কেমন কাটল বাংলাদেশের ২০১৫ সালটা।

ওয়ানডে : বাংলাদেশের ওয়ানডে মৌসুমটা দারুণ কেটেছে। ২০১৫ সালের পুরো সময় ছিল বাংলাদেশের জন্য সুসময়। ২০১৪ সালের শেষেরদিকে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ায়। তারপর শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের গল্প।২০১৫ সাল শুরু হয় বিশ্বকাপ দিয়ে। দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং সব বিভাগেই দারুন ভাবে সফল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ২০১৫তে ১৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১৩টি ম্যাচ জিতে। প্রায় ৭২ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশ অবস্থান। রানের ধারায় ছিলেন সব ব্যাটসম্যান।সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিল মুশফিকুর রহিমের ব্যাট। ৫১.১৩ গড়ে ১৮ ম্যাচে ৭৬৭ রান করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ব্যাটম্যানের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে। ধারাবাহিক ছিল তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ব্যাট। মুশফিকের পরের দুই অবস্থানে রয়েছে তামিম ও সৌম্য। ৪৬.৩৭ গড়ে তামিমের রান ৭৪২ ও ৫১.৬৯ গড়ে সৌম্যের রান ৬৭২।এতো গেল ব্যাটম্যানের কথা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আবিস্কার হলো বোলিং বিভাগে। মাত্র ৯ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে ২০১৫ সালের বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর নাম মুস্তাফিজুর রহমান। যে নামটাকিছু দিন আগেও কেউ চিনত না। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান কে টপকে সেরা উইকেট শিকারীর তালিকায় সেই মুস্তাফিজুর রহমান। তার ‘কাটার’ নামক বিষে কাটা পরেছে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটম্যান। এরপরেরঅবস্থানে রয়েছে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তুজা। সাকিব নিয়েছেন ২৪ উইকেট আর মাশরাফি ২১ উইকেট।

টেস্ট : টেস্ট ক্রিকেটে বরাবরই বাংলাদেশ পিছিয়ে। তাই টেস্টের পারফর্মেন্স বাংলাদেশের তেমন সাফল্য মন্ডিত নয়। অবশ্য টেস্টে উন্নতি করতে হলে টেস্ট খেলতে হবে বেশি বেশি। বাংলাদেশ এই বছরে টেস্ট খেলেছে মাত্র পাঁচটি। এর মধ্যে ১ ম্যাচ হারে বাংলাদেশ বাকি চারটি ম্যাচ ড্র করে। ড্র করা সবগুলো ম্যাচে বৃষ্টির অবদান ছিল। মাত্র একটি ম্যাচ পুরো খেলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ২৯৬ রানে ফলো-অনে পড়েও ম্যাচ ড্র করেছিল বাংলাদেশ। টেস্টে সাফল্য বলতে এতটুকুই।৩৮৪ রান নিয়ে এ বছর বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটসম্যানের তালিকায় এক নম্বরে ইমরুল কায়েস। ৩৭৫ রান নিয়ে দুইয়ে তামিম ও ২৯৪ রান নিয়ে তিনে সাকিব আল হাসান।বোলিংয়ে ১১ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে তাইজুল ইসলাম। এরপর ৭ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয়তে সাকিব আল হাসান। ৫ উইকেট নিয়ে জুবায়ের হোসেন তিনে রয়েছে।

টি ২০ : টি  -২০ তে বরাবরই বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো না। তাই এ বছর বাংলাদেশ টি-২০ তে বাংলাদেশবলার মতো কিছুই করতে পারে নি। এ বছর বাংলাদেশ টি-২০ খেলেছে ৫টি। এর মধ্যে ২টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। বাকি ম্যাচ গুলো হেরেছে।পাঁচ ম্যাচে ৯১ রান নিয়ে প্রথমে আছে সাব্বির রহমান। ৩ ম্যাচে ৯১ রান নিয়ে দুইয়ে সাকিব আল হাসান। ৮৪ রান নিতে তিনে তামিম ইকবাল।বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে মুস্তাফিজুর রহমান। সমান ৫ উইকেই নিয়ে দ্বিতীয়তে আল-আমিন হোসেন ও তৃতীয়তে আরাফাত সানি।
নিচে এক ঝলকে দেখে নিন সেরাদের তালিকা