Thursday, December 24, 2015

তিন টুর্নামেন্টের সময়সূচী নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ

পাকিস্তান সুপার লিগ, এশিয়া কাপ ও টি
টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পাকিস্তানের
ঘরোয়া লিগটি বাদ রাখলে বাকি দুইটি
টূর্নামেন্টই বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেটের
সবথেকে বড় প্রতিযোগিতা।
কিন্তু সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টগুলোর
সময়সূচী যখন সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, তখন
বাংলাদেশের মতো উঠতি পরাশক্তির জন্য
তা একটু বিব্রতকরই হয় বটে।
অপরদিকে ঘরোয়া লিগগুলোর মধ্য আসন্ন
পিএসএলও নিসন্দেহে একটি আন্তর্জাতিক
মানেরই টূর্ণামেন্ট হতে যাচ্ছে, যেখানে
সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের
গুরুত্বপূর্ন ৪ খেলোয়াড়। ফলে পিএসএলকেও
স্বাভাবিকভাবে মাথায় রাখতেই হচ্ছে
বিসিবির।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট ৩টির
সময়সূচী এমনভাবে করা হয়েছে যাতে বেশ
ভালো মতোই বিপাকে পড়েছে
বাংলাদেশ।
আগামী ৪ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত
আরব আমিরাতে হবে পাকিস্তানের
ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি
টুর্নামেন্ট পিএসএল। আর আগামী ২৪
ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ পিএসএল ফাইনালের
একদিন আগে থেকেই বাংলাদেশের
মাটিতেই শুরু হয়ে যাবে এশিয়া কাপ। আর
প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে
হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকেই আসন্ন টি-
টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ
হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। ফলে
পিএসএল শেষ না করেই হয়তবা এশিয়া
কাপের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে
ফিরবেন ক্রিকেটাররা।
তবে পাকিস্তান সুপার লিগ যেহেতু
আন্তর্জাতিক কোন টুর্নামেন্ট না, ফলে
এটি একেবারে মাথা থেকে ঝেড়ে
ফেললেও কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ওদিকে
ঘরের মাঠের এশিয়া কাপের সাথে টি-
টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়সূচীও যে মিলে
যায়!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই
এই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ টি-
টোয়েন্টি ফরম্যাটে আয়োজন করার
সিদ্ধান্ত নেয় এশিয়ান ক্রিকেট
কাউন্সিল। আর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় এই
টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি
থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু যেই
বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই এশিয়া
কাপের ফরম্যাটকেই পরিবর্তন করা হলো,
সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রস্তুতি
ম্যাচের তারিখ ঠিক করা আছে মার্চের ৪ ও
৬ তারিখে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি এশিয়া কাপের
ফাইনালে পৌঁছে যায়, তবে অবশ্যই
বাংলাদেশকে এশিয়া কাপ ফাইনাল অথবা
বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ; যে কোন একটি
খেলা বর্জন করতেই হবে। অর্থাৎ এশিয়া
কাপের ফাইনালে উঠতে পারলে
বিশ্বকাপের ভেন্যু ভারতে গিয়ে কোনো
প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলেই ৯ মার্চ
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের
মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে
ভারতের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে
নেওয়ার সময়টাও কমে যাবে
বাংলাদেশের।
বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয়
ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের
প্রধান নাইমুর রহমান জানান, অন্তত একটি
প্রস্তুতি ম্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে
বাংলাদেশের।
“এশিয়া কাপেই আমাদের বিশ্বকাপের
প্রস্তুতি নিতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে
আমরা এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে না
পারলে ৬ মার্চের দ্বিতীয় প্রস্তুতি
ম্যাচটিতে খেলতে পারব।”
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, আপাতদৃষ্টিতে
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের চাইতে ঘরের
মাঠের এশিয়া কাপকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে
বিসিবি। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতেও ছোট
দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার
চাইতে এশিয়া কাপে বড় দলগুলোর
বিপক্ষেই খেলা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
কিন্তু তবুও বিশ্বকাপের ভেন্যুতে গিয়ে
অন্তত একটি ম্যাচ খেলার গুরুত্বটাও বেশ বড়
করেই দেখছেন অনেকে।
এশিয়ার অন্য তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশ
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার এই জটিলতা
নেই। সরাসরি সুপার টেনে খেলার কারণে
ফাইনালের পর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতেও
কোনো অসুবিধা হবে না তাদের।
তবে আইসিসির কাছে এশিয়া কাপ আর
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের সাংঘর্ষিক
সময়সুচী বদলাতে আপিল করবে বিসিবি।
কিন্তু সময় বদলানোর সম্ভাবনা একেবারে
নেই বললেই চলে। তাই খুব সম্ভবত টি-
টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি
ম্যাচগুলোকে এক অর্থে বিসর্জনই দিতে
হতে পারে বাংলাদেশকে।