Wednesday, October 21, 2015

ইকমার্স কি? ইকমার্সের ইতিহাস



ইকমার্স কি?
ইকমার্স ইংরেজি শব্দ এর পরিপূর্ন রুপ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক কমার্স যা আমাদের কাছে ইকমার্স নামেই পরিচিত সহজ ভাষায় ইলেক্ট্রনিক নেটয়ার্ক যেমন কম্পিউটার
নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ব্যবহার করে পন্য বা
সার্ভিস ক্রয় বিক্রয় করাকেই ইকমার্স বলে।
ইকমার্স নির্ভর করে ইন্টারনেট,ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম,কুরিয়ার সার্ভিস,সাপ্লাই চেইন ম্যানেজম্যান্ট,ইন্টারনেট মার্কেটিং,অনলাইন ট্রানজেকশন,ইলেকট্রনিক ডাটা ইন্টারচেঞ্জ,ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, অটোমেটেড ডাটা কালেকশন ইত্যাদির উপর। ইদানিং মোবাইল কমার্স, সোশ্যাল মিডিয়া কমার্স যেমন এফকমার্স বা ফেসবুক কমার্স  ইকমার্সের একটা অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।
ইকমার্স বিজনেস মডেল :
1. B2B (Business to Business): ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ইকমার্সে যে ট্রান্সেকশন। যেমনhttp://www.alibaba.com  এখানে মুলত পন্য সার্ভিস কেনা বেচা হয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে।এখানে কোন কঞ্জিউমারের সাথে ট্রান্সেজশন হয়না।
2.B2C (Business to Consumer): সরাসরি
কঞ্জিউমারের কাছে পন্য বা সার্ভিস বিক্রি করা হয়।যেমন যেমনঃ ajkerdeal.com
 rokomari.com
 AmarGadget.com
 যদিও এটাকে B2C বলা যায় কারন এই সাইট  গুলো মার্চেন্ট বা
ভেন্ডর থেকে কালেক্ট করে কঞ্জিউমার কে সরবরাহ করেন, তবে B2C বলা যায়।
নিজেরদের উতপাদিত পন্য কঞ্জিউমারের
কাছে সরাসরি পৌঁছে দিলে সেটা B2C. যেমন:rupkothajamdani.com

3. C2C (Consumer to Consumer):
মার্কেটপ্লেস যারা শুধু ট্রাফিক বা
ভিসিটর এনে দেন।ভিসিটররাই পন্য ক্রয়
বিক্রয় করেন। এই ধরণের বিজনেস মডেলে
একটা সাইট যা মার্কেটপ্লেস হিসেবে
থাকেন, কসজিউমাররাই ক্রয় বিক্রয় করে।
কঞ্জিউমার থেকে কঞ্জিউমারদের মধ্যে।
যেমন : Ebay.com     kaymu.com.bd
4.C2B (Consumer to Business): কঞ্জিউমার যখন কোন মার্কেটপ্লেসে তার সার্ভিস সেল করেন। যেমন:shurjorajjo.com.bd
ইকমার্সের ইতিহাস :
১৯৭১ মতান্তরে ১৯৭২ সালে ARPANET ব্যবহার করে মারিজুয়ানা বিক্রি হয় স্ট্যানফোর্ড আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ল্যাব এর স্টুডেন্টদের সাথে ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজির স্টুডেন্টদের মধ্যে। ১৯৭৯ সালে মাইকেল অলড্রিচ প্রথম
অনলাইন শপিং এর ডেমো দেখান। ১৯৮১ সালে থমসন হলিডে ইউকে ইনস্টল করে
প্রথম বিজনেস টু বিজনেস অনলাইন শপ...
১৯৮২ সালে ফ্রেঞ্চ টেলিকম কোম্পানী
মিনিটেল তাদের অনলাইন অর্ডার নেয়া শুরু
করে। ১৯৯০ সালে WWW এর জনক টিম বার্নারস লি প্রথম ওয়েব ব্রাউজার শুরু করে যা ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে পরিচত।এর ফলে ইন্টারনেট জগতে বিল্পব সুচনা হয়,অনলাইন শপিং বা ইকমার্স যাত্রা শুরু করে।
১৯৯২ সালে বুক স্ট্যাকস আনলিমিটেড বুকস ডট কম নামে প্রথম ইকমার্স শুরু করে
অনলাইন পেমেন্ট প্রসেসিং ব্যবহার করে।
১৯৯৫ সালে জেফ বেজস শুরু করেন ইকমার্স
জায়ান্ট আমাজন ডট কম। ডেল এবং সিসকো ও তাদের অনলাইন ট্রাঞ্জেকশন শুরু করেন। সাথে সাথেই শুর কয় নিলাম বা অকশন জায়ান্ট ইবের যাত্রা কম্পিউটার
প্রোগ্রামার পিয়েরে অমিতদারের হাত ধরে,যা আগে অকশন ওয়েব নামে পরিচিত ছিল।
১৯৯৬ সালে আমাদের পাশের দেশ
ইন্ডিয়াতে শুর হয় প্রথম ইন্ডিয়ান ইকমার্স
সাইট ইন্ডিয়ামার্ট যা ছিল একটি বি টু বি
ইকমার্স সাইট। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে চায়নার ইকমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ।
২০০০ সাল মতান্তরে ১৯৯৮ বা ১৯৯৯ সালে
আমাদের দেশ বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ইকমার্স সাইট,নাম মুন্সিজি ডট কম।
২০০১ সাল।আলিবাবা ডট কম লাভজনক
প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়। ২০০৩ সালে আমাজন প্রথম লাভের মুখ দেখে এবং তারা প্রথম বাৎসরিক প্রফিট ঘোষনা করে। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট এখনি ডট কম এবং আজকের ডিল ডট কম।
২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের
অন্যতম জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট রকমারি ডট কম।ফেসবুক থেকেও শুরু হয় ইকমার্সের মত করে অনলাইন শপিং।ছোট ছোট উদ্যক্তারা ফেসবুক কমার্স থেকে ইকমার্সে ধাবিত হন। যাত্রা শুরু করে টিশার্ট নিয়ে
টিজোনবিডি,  রুপকথাজামদানি আমারগ্যাজেট,সিভি স্ট্রিট সহ অনেক সাইট।এসময় ফেসবুক কেন্দ্রিক উদ্যক্তারাই ইকমার্স কে পন্য বা সার্ভিস সাপ্লাই করে ইকমার্স কে এগিয়ে নিয়ে যান।
২০১৩ সালে বাংলাদেশে ইকমার্স জগতে
তৈরী হয় নতুন দিগন্ত।বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক,ব্যাসিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ইকমার্স কে জনপ্রিয় করতে শুরু করে নানান কর্মসুচি,মেলা সেমিনার ইত্যাদি। কম্পিউটার জগত নামে ম্যাগাজিন ইকমার্স মেলা করে ঢাকা সহ বাংলাদেশের অনেক অংশে।যাত্রা শুরু করে আরেকটি জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট প্রিয়শপ ডট কম। বিদেশী মাল্টি মিলিয়ন ডলার কোম্পানী গুলো আসতে শুরু করে আমাদের দেশে। ২০১৪ তে ইকমার্স বেশ জনপ্রিয়,কুরিয়ার সার্ভিস,পেমেন্ট গেটওয়ে সহ ইকমার্সের জন্য দরকারী অনেক ইনফ্রাস্টাকচার ছাড়াই ইকমার্স এগিয়ে যেতে থাকে। বাইরের কোম্পানী গুলো বাংলাদেশে
মিলিয়ন ডলার ইনভেস্টের প্রতিযোগিতায়
নেমে পরে। বর্তমানে বাংলাদেশে আস্তে আস্তে অনলাইনে কেনাকাটা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দশ বছরে বাংলাদেশে ইকমার্স খুব
জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং  বাংলাদেশ ইকমার্সে  অনেক দূর এগিয়ে যাবে।