Wednesday, October 7, 2015

ওয়েব ডিজাইন কি? ওয়েবডিজাইনের গুরুত্ব এবং ওয়েবডিজাইনের পরিচিতি ১ম পর্ব

আজকে আমি ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে
আলোচনা করবো একেবারে শুরু থেকে
তার আগে ওয়েব ডিজাইন এর পরিচিতি
সম্পর্কে জানা যাক।
ওয়েব ডিজাইনের পরিচিতি :  বিঙান, ব্যবসায়, শিক্ষা,শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, ইন্টারনেট ব্যবহারের
অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ওয়েবসাইট
আর এই ওয়েবসাইট তৈরি করতে প্রয়োজন
পড়ে ওয়েবডিজাইন এর ওয়েবডিজাইনের
মাধ্যমে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি
করা হয় ওয়েবসাইট একজন শিল্পী রংতুলির
ছোঁয়ায় তার চিত্রকর্ম যেভাবে ফুটিয়ে তুলেন
ঠিক তেমনি একজন ওয়েবডিজাইনার তার
দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি
ব্যবহার করে তৈরি করেন বিচিত্র সব
ওয়েবপেইজ।

ওয়েব ডিজাইন কি?

ওয়েব ডিজাইন বলতে মূলত কোন ওয়েবসাইট
এর বাহ্যিক অবকাঠামো তৈরী করাকে বুঝায়।আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় ওয়েব ডিজাইন হলো ওয়েবের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করার একটি প্রক্রিয়া পরিকল্পনা।একটি ওয়েবসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ডিজাইন। এই ডিজাইন ই যদি সুন্দর না হয় তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ভিসিটর পাবেন না। 

ওয়েব ডিজাইন ২ প্রকার  যথাঃ

১. স্ট্যাটিক ওয়েব ডিজাইন।

২. ডায়নামিক ওয়েব ডিজাইন।

স্ট্যাটিক ওয়েব ডিজাইন করতে যা যা জানতে হবেঃ  

- এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট ও   ফটোশপ।

ডায়নামিক ওয়েব ডিজাইন করতে যা যা জানতে হবেঃ

- এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট,

জোকুয়েরি, পিএইচপি, মাইএসকিউএল ও ফটোশপ।

আপনি স্ট্যাটিক ডিজাইন অথবা ডায়নামিক ডিজাইন যেটাই করেন না কেন, আপনাকে ফটোশপ জানতেই হবে।

ওয়েবসাইট

ওয়েবসাইট হচ্ছে কতো গুলোওয়েব পেইজের সমষ্টি যে গুলোকে একত্রেএকটি ওয়েবসাইট বলা হয়। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো একটি ওয়েব সাইটে ওয়েব পেইজ এক বা একাধিক হতে পারে। এখন তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে 

  ওয়েব পেইজ কি? 

ওয়েব পেইজ হচ্ছে কতো গুলো মার্কআপ
ল্যাংগুয়েজের সমন্বয়ে লিখিত একটি
টেক্সট ফাইল বা ডকুমেন্ট। যেটা ওয়েব
ব্রাউজার পড়তে পারে। মার্কআপ
ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে আলোচনা পরবর্তি
পর্বে আসবে।
কয়েকটি ওয়েবসাইট এর উদাহরণঃ
www.google.com, www.facebook.com,
www.Amazon.com, www.alibaba.com
ইত্যাদি।
ওয়েব ব্রাউজার: ওয়েব ব্রাউজার হচ্ছে
একটি সফট্ওয়্যার যেটা কোন ব্যবহারকারীর
কম্পিউটারে কিংবা মোবাইলে  ইন্সটল করা হয় এবং সেটা
কোন ওয়েব সাইট বা ওয়েব পেইজকে কোন
একটি নিদৃষ্ট ঠিকানা থেকে কম্পিউটার
এবং মোবাইলের পর্দায় প্রদর্শন করতে পারে। অর্থাৎ কোন ওয়েব পেইজকে দেখতে হলে একটি ওয়েব ব্রাউজারের প্রয়োজন যা ঐ ওয়েব পেইজকে প্রদর্শন করবে। উদাহরণ সরূপ কিছু ওয়েব ব্রাউজারের নাম হচ্ছেঃ মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, ইন্টারনেট। এক্সপ্লোরার ইত্যাদি।

ওয়েব ডিজাইনের গুরুত্ত :
বর্তমানযুগে ওয়েব ডিজাইনের গুরুত্ব আসলে
বলে শেষ করা যাবে না। তার পরেও চলুন
চেষ্টা করা যাক।
আমরা অনেকেই লক্ষ করেছি যে, বর্তমান
সময়ে নবীন প্রযন্মো থেকে শুরু করে প্রবীণ
সবাই কমবেশী ইন্টানেট নির্ভর হয়ে
পড়েছে। আর ভবিষ্যতে যে এই হার আরো বহু অংশে বেড়ে যাবে না তা বলার অপেক্ষা
রাখেনা। বর্তমানে পিৎজা অর্ডার করা
থেকে শুরু করে বাচ্চার ডায়াপার সবই
কেনা বেচা করা যায় ইন্টারনেটের
মাধ্যমে। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা
যায় এর অর্থ হচ্ছে ঐ সংশ্লিষ্ট কম্পানির
ওয়েব সাইটের মাধ্যমে করা যায়। কারণ
ইন্টারনেট শব্দটার সাথে ওতপ্রোত ভাবে
জড়িত আছে ওয়েবসাইট শব্দটি। আমরা যখন
ইন্টারনেট এ কোন তথ্য অনুসন্ধান করি তখন
সেটা কোন না কোন ওয়েবসাইট থেকেই
আসে। এখানে ইন্টারনেট হচ্ছে একটি
মাধ্যম। এটা একটি নেটওয়ার্ক পদ্ধতি যেটা
দূরের কোন কম্পিউটারে থাকা ওয়েব পেইজ
গুলোকে আমার কম্পিউটারে নিয়ে আসে
এবং আমি সেটা ওয়েব ব্রাউজারের
মাধ্যমে আমার কম্পিউটারের পর্দায়
দেখতে পাই।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষা পটেই
বলতে পারি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
ভর্তির আবেদন, ফলাফল প্রকাশ করা থেকে
শুরু করে বিমানের টিকেট ক্রয় করা,
সোস্যাল কমিউনিকেশন,শপিং, ব্যাংকিং
সব ক্ষেত্রে আজ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট
ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারী বা
বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠানই তাদের
নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরী করছে। ফলে
দ্রুততার সাথে বিভিন্ন সেবা
জনসাধারণের মাঝেপৌছে দেওয়া সম্ভব
হচ্ছে।
তাহলে এখন আপনি নিজেই চিন্তা করে
দেখুন, ওয়েবসাইটের গুরুত্ব এতটা হলে ওয়েব
ডিজাইনের গুরুত্ব কতোটা হতে পারেআর
একজন ওয়েব ডিজাইনারের গুরুত্বই বা
কতোটা হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে একজন দক্ষ ওয়েব
ডিজাইনারের অনেক চাহিদা রয়েছে। আমরা অনেকেই ইন্টারনেটের
মাধ্যমে আয় কথাটি শুনেছি। যেটাকে বলা
হয় ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। যার অর্থ
হলো, ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের
মাধ্যমে ঘরে বসে নিজের দক্ষতাকে কাজে
লাগিয়ে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের
কাজ সম্পন্ন করে অর্থ আয় করা। আর এই
ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং এ সবচেয়ে
চাহিদা সম্পন্ন কাজের একটি হচ্ছে (ওয়েব
ডিজাইন)তাই ওয়েব ডিজাইনকে আপনি
পেশা হিসেবেও বেছে নিতে পারেন।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ওয়েব ডিজাইনের
গুরুত্ব সত্যিই অপরিশীম।
যা যা জানতে হবে
শুধুমাত্র ওয়েব ডিজাইন শিখতে হলে
অর্থাৎ আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনার হতে
চান সেক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আপনাকে
জানতে হবে

ওয়েব ডিজাইন শিখতে যা জানতে হবে -

এইচটিএমএল  : হাইফার টেক্সট মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ (Hyper Text Mark-up language) এর সংক্ষিপ্ত রুপ হলো HTML          যা ওয়েব ব্রাউজারে তথ্য প্রদর্শন বা ওয়েব        পেজে তথ্য উপস্থাপন ও ফরমেট করতে        ওয়েব ডিজাইনাররা ব্যবহার করেন এটি সত্যিকার অর্থে কোন প্রোগ্রামিং ভাষা নয়       তবে ডিজাইনাররা ওয়েব পেজে টেক্সট, অডিও, ভিডিও, গ্রাফিক্স বা এনিমেশনকে সুন্দরভাবে সাজাতে বা ফরমেট করতে এই ভাষা ব্যবহার করেন।

সিএসএস  :  ক্যাসকেডিং স্টাইল শিটস  (cascading style sheets) যার সংক্ষিপ্ত রুপ CSS এটি কোন প্রোগ্রামিং ভাষা নয় এটি একটি মার্কআপ ভাষা তাই শিখাটাও সহজ

ফটোশপ : এখানে যে মুল কাজটি শিখতে
হবে তাহল পিএসডি থেকে এইচটিএমএল
টেমপ্লেট ( PSD to HTML) বানানো এছাড়া
ব্যানার, বাটন, এনিমেশন তৈরী করা এসব
জানতে হবে।
অতিরিক্ত হিসেবে ফ্ল্যাশ দিয়ে
এনিমেশন তৈরী করা শিখতে পারেন।
যেভাবে ওয়েব ডিজাইন শিখবেন
বিভিন্ন ওয়েব সাইটের টিউটোরিয়াল
থেকে ওয়েব ডিজাইন ভালভাবে শিখতে
পারবেন। বাংলা ইংরেজি অনেক সাইট
আছে এসব শেখার।ওয়েব ডিজাইন শেখা
বেশ সহজ, কয়েকমাসেই শেখা সম্ভব।
ভালভাবে শিখতে পারলে ওয়েব
ডিজাইনের উপর প্রচুর চাকরি এবং
ফ্রিল্যান্সিং এ হাজার হাজার কাজ
পাওয়া যায়। আজকে এই পর্যন্তই ইচ্ছে আছে
আগামীতে ওয়েবডিজাইনের পুরোপুরি
গাইডলাইন আপনাদের সামনে তুলে ধরবার
সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।