Monday, October 5, 2015

আউটসোর্সিং কি? আউটসোর্সিং এর সঠিক ধারনা সম্পর্কে জানি......

বর্তমানে বাংলাদেশে আউটসোর্সিং
নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে।
রাতারাতি ধনী  হবার বাহারি ও
রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে
আকৃষ্ট করার পায়তারায় ব্যস্ত আছে একটি
শ্রেনী। অনলাইনে আয় করার এইসব
বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে
প্রতারিতও হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ
আবার এই ক্ষেত্রটিকে ভূয়া এমএলএম
ব্যাবসার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন।

আউটসোর্সিং শব্দটি আমাদের দেশে যে
খুব বেশি পরিচিত তা নয়, তবে অসাধু
ব্যাবসায়ী আর চটকদার বিজ্ঞাপনের
কল্যাণে শব্দটি এখন মানুষের মনে নানা
কৌতুহলের জন্ম দিচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে
বাংলাদেশীদের কাছে অতি পরিচিইত শব্দ
হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে। আবার কারো
কারো কাছে নিন্দিত হচ্ছে। কিন্তু এমনটা
হবার কথা ছিল না। এখন থেকে দশ পনেরো  বছর আগে আমাদের দেশের মানুষ
আউটসোর্সিং এর সাথে পরিচিত ছিলোনা,
তখনো কিন্তু আউটসোর্সিং এর কাজ হতো  কিন্তু এখনকার মতো তা ততটা জনপ্রিয়
ছিলোনা। আউটসোর্সিং বাংলাদেশ তথা
সমগ্র বিশ্বে এখন খুব জনপ্রিয় এর কারন
হচ্ছে
পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগীতা মূলক
বিশ্বায়নের এই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের
দেশগুলোতে আর্থ-সামাজিক
অস্থিরতার কারনে অর্থনৈতিক বৈশম্য
এবং অব্যবস্থাপনার কারনে বেকার সমস্যা
ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশও এই
পরিস্থিতির স্বীকার। যার ফলে বেকার
যুবকদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের
মানুষ জীবনের প্রয়োজনে বিকল্প আয়ের
পথ খুজছে। এই সুজোগে আউটসোর্সিংই
শব্দটি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে দ্রুত
প্রসার লাভ করছে, এবং হয়তো ভবিষ্যতে
আরও করবে।
কিন্তু আসলে কি এই ব্যবস্থার
(আউটসোর্সিং) মাধ্যমে এইসকল সমস্যার
সমাধান সম্ভব ? এর সঠিক উত্তর হল
পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশেই সম্ভব।
তবে এর পেছনে অনেকগুলি কিন্তু জড়িত !!
যেমন আমাদের দেশে এখন হর হামেশাই
শোনা যায় একটি কথা, সহজ উপায়ে
অনলাইনে আয়। আমার কথা হল, এত সহজে
যদি অনলাইনে কাড়ি কাড়ি ডলার/টাকা
কামানো যেত
তাহলে পৃথিবী কোটি কোটি মানুষ স্রেফ
টাকা উপার্যনের জন্য দিন রাত খাটা
খাটুনি বন্ধ করে একখানা কম্পিউটার আর
অনলাই কানেকশন নিয়ে যার যার ঘরে বসে
যেত, আর ডলার আয় করত।
কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্ন। আসলে
আপনার যদি দক্ষতা থাকে তাহলে
আউটসোর্সিং কেন অন্য যেকোন সেক্টরে
আপনি সফল হতে পারেন। আউটসোর্সিংএর
ভিন্নতাটুকু হল, এখানে কাজ
করা এবং কাজ পাবার স্বাধীনতাটুকু আছে
যা আপনি অন্য পেশায় পাবেন না। আর
একটা পার্থক্য হল আপনার পরিশ্রমের সঠিক
মূল্যায়ন এখানে পাবেন এবং তার জন্য
উপযুক্ত সম্মানী পাবেন,
অন্যান্য পেশায় যার জন্য প্রতিনিয়ত কর্তা
ব্যাক্তিদের সাথে কর্মকর্তাদের মন
কাষাকষি লেগেই থাকে, যা
আউটসোর্সিং এ নেই। এক কথায়
আউটসোর্সিং হল সঠিক কাজ করে সহজ
উপায়ে আয় করার একটি কঠিন মাধ্যম।
যেখানে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমেই
দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এবং কাজ করার
জন্য সঠিক প্লাটফর্মে আসতে হবে।
কেননা আপনি যদি সঠিক কাজ না জানেন
আপনার পক্ষে আউটসোর্সিং করা সম্ভব
হবেনা যার জন্য আপনাকে ডলার
কামানোর চিন্তা বাদ দিতে হবে আর
যদি আপনি সঠিক কাজ জানেন তাহলে
আপনার পক্ষে মার্কেটপ্লেসে টিকে থাকা
সম্ভব হবে এবং আপনি এই পেশা দিয়ে
ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। তাহলে আগে জানা যাক আউটসোর্সিং কি,
এবং আউটসোর্সিং কেন করবো।

আউটসোর্সিং কি?

আউটসোর্সিং তথা ফ্রিল্যান্সিং শব্দের
মূল অর্থ হল মুক্ত পেশা। অর্থাৎ মুক্তভাবে
কাজ করে আয় করার পেশা। আর একটু সহজ
ভাবে বললে, ইন্টারনেটের
ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। নিজ
প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে
এসব কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে।
যারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ
করে দেন, তাঁদের ফ্রিল্যান্সার বলে।

আউটসোর্সিং এর কাজ : বিভিন্ন  সাইট
বা অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজগুলো
বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা থাকে। যেমন:
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার
ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও
তথ্যব্যবস্থা (ইনফরমেশন সিস্টেম), লেখা ও
অনুবাদ, প্রশাসনিক সহায়তা, ডিজাইন ও
মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা (Customer
Service), বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসাসেবা
ইত্যাদি। এইসকল
কাজগুলি ইন্টারনেট ব্যাবস্থার মাধ্যমে
করে দিতে পারলেই অনলাইনে আয় করা
সম্ভব। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের উন্নত
ধরনের কাজ করারও ব্যাবস্থা আছে
আউটসোর্সিং জগতে। কিন্তু
আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী
সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে নানা
পদ্ধতির মাধ্যমে আউটসোর্সিং করে আয়
করার সহজ উপায়ের নামে মানুষকে ধোকা
দিচ্ছে। বাস্তবে উপরে উল্লিখিত
কাজগুলো অথবা এইরকম কারিগরি কাজে
দক্ষতা থাকলেও কেবল আউটসোর্সিং
জগতে ভাল আয় করা সম্ভব। কোনপ্রকার
দক্ষতা ছাড়া এবং আউটসোর্সিং সম্পর্কে
ভাল
জানাশোনা না থাকলে ধোকা খাওয়া
ছাড়া আর কোন উপায় নাই। তাই আগে
কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করেন,
তারপর এই পেশায় আসুন। ছোট্র করে বলে
রাখি, আপনি যে কাজই জানেন,
তা যদি মানুষের কাজে আসতে পারে বলে
আপনার মনে হয়, মনে রাখবেন অনলাইনের
মাধ্যমে এই কাজটুকু করেই আপনি আয় করতে
পারেন। শুধু দরকার সঠিক দিক নি।।র্দেশনা,
এবং যে কাজটুকু
করবেন তা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন
করা।
এবার আসব আউটসোর্সিং কেন করবেন ?
কিভাবে করবেন ?
আমাদের দেশে তথা বিশ্বের সকল দেশেই
আউটসোর্সিং জগতে কাজ করে এমন অনেক
মানুষ রয়েছে। কিন্তু তাদের সবাই শতভাগ
সফল হতে পারে না। মনে রাখবেন
আউটসোর্সিং যেহেতু মুক্ত পেশা,
সেখানে আপনার জবাবদিহিতার চেয়ে
আপনার কাজের জবাবদিহিতা বেশি।
আপনি এই জগতে আসবেন অবশ্যই উপার্যন
করার জন্য, এবং আপনি যার কাছ থেকে এই
উপার্জনটুকু নিবেন তাকে কোন
না কোন সেবা প্রদান করেই এই উপার্যনটুকু
করবেন। সুতরাং আপনার কাজ যদি সঠিক
না হয়, আপনার কাজে যদি জবাবদিহিতা
না থাকে, আপনি যদি কাজ করার ক্ষেত্রে
মনযোগী না হন,
আপনার কাজে যদি স্বচ্ছতা না থাকে
তাহলে আপনি এই সেক্টরে সফল হতে
পারবেন না। আউটসোর্সিং এ সবসময়
আপনি নিজেকে দিয়ে মূল্যায়ন করবেন।
অর্থাৎ আপনি নিজে যদি এই
কাজটি (যে কাজটির জন্য আপনি মনোনিত
হয়েছেন) অন্য কাউকে দিয়ে করাতেন
তাহলে তার কাছ থেকে আপনি কি আশা
করতেন, এবং অবশ্যই তার চেয়ে একটু বেশিই
দেবার চেষ্টা করবেন।
তাহলে যে আপনাকে দিয়ে কাজ করাবে
সেও খুশি থাকবে আপনার কাজ পাবার
সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
কাজ পাবেন যেখানে: আউটসোর্সিংয়ের
কাজ পাওয়া যায় এমন অনেক ওয়েবসাইট
আছে। আবার ভুয়া সাইটও বের হয়েছে। ফলে
সতর্ক হয়েই কাজ শুরু করতে হবে।
আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং
নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সাইটের ঠিকানা
দেওয়া হলো— http://www.odesk.com , http://
www.freelancer.com , http://www.elance.com
, http://www.getacoder.com , http://
www.guru.com ,
http://www.vworker.com , http://
www.fiverr.com ইত্যাদি।